নির্বাচনের ফল তখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে প্রাথমিক ফলাফল ছড়িয়ে পড়েছে মুখে মুখে। পাঁচ তারকা হোটেলের ভেতরই হুল্লোড় উঠল, খালেদ মাসুদ পাইলটের নামে স্লোগানে মুখরিত হলো চারপাশ। এরপর একের পর এক ফুলের মালা পরানো হলো তার গলায়। মালার ভীড়ে প্রায় হারিয়ে গেলেন তিনি। তবে এর ফাঁকেও দেখা গেল তার মুখে চওড়া হাসি।
প্রথমবার বিসিবির পরিচালনা পর্ষদে জায়গা করে নিয়েছেন খালেদ মাসুদ। বিসিবি বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে স্রেফ এই একটি ক্যাটেগরি ঘিরেই ছিল কিছুটা কৌতূহল। সেখানে বিপুল ব্যবধানেই জিতেছেন তিনি। সাবেক এই কিপার-ব্যাটসম্যান পেয়েছেন ৩৫ ভোট।
এই ক্যাটেগরিতে তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক সাবেক ক্রিকেটার দেবব্রত পাল পেয়েছেন ৭ ভোট। তবে ভোটের পর নির্বাচনে সরকারি প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কাউন্সিলর। তার মতে, এই নির্বাচনে ফিক্সিংয়ের চেয়েও গভীর কিছু হয়েছে।
বিসিবির গত নির্বাচনে অংশ নিয়ে বড় ব্যবধানে হেরে গিয়েছিলেন খালেদ মাসুদ।
গত কিছুদিনের ঘটনাপ্রবাহের পর নির্বাচন চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হয় আগেই। সরকারি হস্তক্ষেপ, অনিয়মসহ নানা অভিযোগে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান আলোচিত প্রার্থী তামিম ইকবালসহ মোট ২১ জন প্রার্থী। তাতে নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা হারায় প্রবলভাবে।
নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১৫৬ জন, ভোট পড়েছে ১১৫টি।
নির্বাচনের আগেই পরিচালনা পর্ষদে জায়গা নিশ্চিত হয়ে যায় সাবেক ক্রিকেটার আব্দুর রাজ্জাক, গায়ক আসিফ আকবরসহ মোট ৯ জনের। অন্যদের বেশির ভাগের নির্বাচনে জয়ও ছিল অনেকটা নিশ্চিত। কেবল ৩ নম্বর ক্যাটেগরিতে খালেদ মাসুদ ও দেবব্রতর লড়াই এবং ১ নম্বর ক্যাটেগরিতে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের লড়াই কিছুটা দেখার ব্যাপার ছিল। শেষ পর্যন্ত এই তিনটিতেও লড়াই জমেনি। রাজশাহী বিভাগ থেকে ৭ ভোট পেয়ে জিতেছেন মুহাম্মদ মুখলেসুর রহমান, রংপুর বিভাগ থেকে সমান ভোট পেয়ে হাসানুজ্জামান।
সবচেয়ে বেশি পরিচালকের ক্যাটেগরি যেটি, সেখানে ১৮ প্রার্থীর নাম প্রত্যাহারের পর ১২ পরিচালকের লড়াইয়ে টিকে ছিলেন মাত্র ১৫ জন। সম্ভাব্য যাদেরকে ধারণা করা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত জিতেছেন তারাই। সর্বোচ্চ ৪২ ভোট পেয়েছেন তিনজন- চার মাস আগে সভাপতির পদ হারানো ফারুক আহমেদ, টি-স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী ইশতিয়াক সাদেক ও বিপিএল দল রংপুর রাইডার্সের টিম ডিরেক্টর শানিয়ান তাসনিম নাভিন।
বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ২৫ পরিচালকের মধ্যে ২৩ জন নির্বাচিত হন ভোটে। বাকি দুজনকে সরাসরি মনোনয়ন দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এবার ক্রীড়া পরিষদের মনোনয়ন পরিচালক হয়েছেন দুই ব্যবসায়ী এম ইসফাক হোসেন ও ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক।
২০২১ সালে বিসিবির সবশেষ নির্বাচনে জয়ী হওয়া পরিচালনা পর্ষদ থেকে এবার টিকেছেন স্রেফ দুজন- ইফতেখার রহমান ও মনজুর আলম।
বিসিবির নতুন পরিচালনা পর্ষদ:
ক্যাটেগরি – ১ (জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা) :
ঢাকা বিভাগ- (১৭টি, প্রদান করা হয়েছে ১৫টি)
আমিনুল ইসলাম (১৫ ভোট), নাজমুল আবেদীন (১৫ ভোট)
চট্টগ্রাম বিভাগ-
আহসান ইকবাল চৌধুরী, আসিফ আকবর (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়)
খুলনা বিভাগ-
আব্দুর রাজ্জাক, জুলফিকার আলী খান (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়)
রাজশাহী বিভাগ- (৯ ভোট, প্রদান করা হয়েছে ৭টি)
মুহাম্মদ মুখলেসুর রহমান (৭ ভোট)
রংপুর বিভাগ- (মোট ভোট ৯টি, প্রদান করা হয়েছে ৮টি)
হাসানুজ্জামান (৭ ভোট)
সিলেট বিভাগ-
রাহাত শামস (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়)
বরিশাল বিভাগ-
শাখাওয়াত হোসেন (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়)
ক্যাটেগরি – ২ (ক্লাব ক্রিকেট) (মোট ভোট ৭৬টি, প্রদান করা হয়েছে ৪২টি)
ইশতিয়াক সাদেক (৪২ ভোট), আদনান রহমান দীপন (৪০ বোট) , ফায়াজুর রহমান (৪০ ভোট), আবুল বাশার (৪০ ভোট), আমজাদ হোসেন (৪১ ভোট), শানিয়ান তানিম নাভিন (৪২ ভোট), মোখছেদুল কামাল (৪১ ভোট), এম নাজমুল ইসলাম (৩৭ ভোট), ফারুক আহমেদ (৪২ ভোট), মনজুর আলম (৩৯ ভোট), মেহরাব আলম চৌধুরী (৪১ ভোট), ইফতেখার রহমান (৩৪ ভোট)।
ক্যাটেগরি – ৩ (সাবেক ক্রিকেটার-অধিনায়ক, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন সংস্থা) (মোট ভোট ৪৫টি, প্রদান করা হয়েছে ৪৩টি, বাতিল ১টি)
খালেদ মাসুদ পাইলট (৩৫ ভোট)
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মনোনয়ন
এম ইসফাক হোসেন ও ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক।








