ঢাকাবুধবার , ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভোগান্তি সঙ্গী করেই দিন গুনছেন বিল অঞ্চলের হাজারো মানুষ

Rajshahi Samachar
জানুয়ারি ১৪, ২০২৬ ৮:১৭ অপরাহ্ণ । ১০৪ জন
ছবি: সংগৃহীত

বর্ষা নামলেই কাদা আর পানির সঙ্গে লড়াই শুরু হয় নওগাঁ সদর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নামা শিকারপুর গ্রামের মানুষের। প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ মাটির সড়কটিতে বৃষ্টির মৌসুমে এতটাই কাদা হয় যে, চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। বছরের পর বছর ধরে এই ভোগান্তি সঙ্গী করেই দিন গুনছেন বিল অঞ্চলের হাজারো মানুষ।

শিকারপুর ইউনিয়নের সরাইল রোড থেকে শেখারপুর বাজার হয়ে নামা শিকারপুর বাজার ও রঘুনাথপুর থেকে কান্তাহারের মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি খানাখন্দে ভরা। শুকনো মৌসুমে কোনোমতে চলাচল করা গেলেও বর্ষা এলেই রাস্তাটি রূপ নেয় কাদা-পানির ফাঁদে। ভ্যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে, অনেক চালক ঝুঁকি নিতে চান না।

ফলে জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করাও হয়ে ওঠে দুঃসাধ্য। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটি সংস্কারের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। বর্ষা এলেই সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন স্কুলগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষ।

স্থানীয় ভ্যানচালক মঈনুল ইসলাম (৪০) বলেন, ‘এই রাস্তা ভালো হলে আমাদের জীবিকা অনেক সহজ হতো। বর্ষাকালে ভ্যান চালানো যায় না, কাদা-পানিতে আটকে পড়তে হয়। ঠিকমতো যাতায়াত না হওয়ায় আয়ও কমে যায়। কাদামাটির এই দুর্ভোগ আর সহ্য হয় না। দ্রুত রাস্তাটি পাকা করার জন্য সবার সহযোগিতা চাই।’

স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস আলী (৩৫) বলেন, ‘এটি আমাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কারণ। বিল এলাকার এই রাস্তাটি সংস্কার হলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে। সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি—দ্রুত এই রাস্তাটি সংস্কার করা হোক।’

একই গ্রামের গৃহবধূ রেনুকা জানান, ‘অনেক বছর ধরে রাস্তার এমন অবস্থা দেখে আসছি। বৃষ্টি হলে ঘর থেকে বের হওয়াই কষ্টকর। রাস্তা হলে আমাদের চলাফেরা অনেক সহজ হবে। কবে এই দুর্দশার অবসান হবে, জানি না।’

স্থানীয় বাসিন্দা বিউটি বলেন, ‘আগে রাস্তা আরও খারাপ ছিল। পরে মাটি কাটা হলেও টেকসই কোনো কাজ হয়নি। এখন যদি ভালোভাবে পাকা করা হয়, তাহলে আমাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।’

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানির মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে শিশু ও অসুস্থ রোগী নিয়ে চলাচল করতে পরিবারগুলোকে পড়তে হয় চরম বিপাকে।

এদিকে স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাস্তাটির সার্ভে করা হয়েছে। অনুমোদনের জন্য ঢাকায় সকল কাগজ পত্র পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে দ্রুত কাজটি শুরু করা হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি পাকা হলে বিল অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসবে নতুন গতি।