ঢাকারবিবার , ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভোজপুরী গানে দর্শকদের চোখে আবেগ, ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধন

Rajshahi Samachar
জানুয়ারি ১৮, ২০২৬ ১:০৬ পূর্বাহ্ণ । ১১৬ জন
ছবি: আর এস গ্রাফিক্স

ভোজপুরী গান—কারও কাছে শিকড়ের টান, কারও কাছে প্রাণখোলা বিনোদন। সহজ কথা, প্রাণবন্ত সুর আর আবেগঘন উপস্থাপনায় ভোজপুরী গান দিন দিন দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে নতুন করে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভোজপুরী গানের ভিউ আর শেয়ারের সংখ্যা বাড়ছে চোখে পড়ার মতো।

শ্রোতাদের মতে, ভোজপুরী গানের সবচেয়ে বড় শক্তি এর ভাষা ও অনুভূতি। রাজশাহীর এক কলেজছাত্রী জানান, “এই গানে গ্রামের জীবন, প্রেম-ভালোবাসা আর বাস্তবতার কথা সহজভাবে বলা হয়। শুনলে নিজের চারপাশের গল্পই মনে হয়।” আবার একজন তরুণ দর্শকের ভাষ্য, “ভোজপুরী গান এখন আগের চেয়ে অনেক আধুনিক হয়েছে। মিউজিক ভিডিওর মান ভালো, সুরও ট্রেন্ডি—তাই তরুণরাও আগ্রহী হচ্ছে।”

তবে সব মতামত একরকম নয়। কিছু দর্শক মনে করেন, জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে কিছু গানে অপ্রয়োজনীয় অশ্লীলতা ঢুকে পড়ছে, যা ভোজপুরী গানের মূল সৌন্দর্যকে ক্ষুণ্ন করছে। পেশায় শিক্ষক এক শ্রোতা বলেন, “ভোজপুরী গান আমাদের সংস্কৃতির অংশ। সৃষ্টিশীলতা বজায় রেখে শালীনতা রক্ষা করা জরুরি।”

সংগীতপ্রেমীদের আরেকটি অংশ ভোজপুরী গানকে আঞ্চলিক সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এই গান নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত করছে। লোকজ সুর আর আধুনিক সংগীতের মিশেলে ভোজপুরী গান এখন শুধু একটি অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বাইরেও।

সামগ্রিকভাবে দর্শকদের মতামত বলছে, ভোজপুরী গান সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলালেও এর আবেগ ও প্রাণশক্তি এখনো অটুট। শালীনতা, সৃষ্টিশীলতা ও সংস্কৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতে পারলে ভোজপুরী গান ভবিষ্যতেও শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে—এমনটাই আশা করছেন সংগীতানুরাগীরা।