ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মান্দায় এয়ারগান দিয়ে অবাধে পাখি শিকার, প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে ক্ষোভ

Rajshahi Samachar
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬ ৮:১৯ অপরাহ্ণ । ২৩৬ জন
ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনকে উপেক্ষা করে এয়ারগান দিয়ে নির্বিচারে পাখি শিকার চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে কয়েকজন যুবক প্রতিদিন দেশি ও অতিথি পাখি শিকার করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শীত মৌসুমে বিল, জলাশয় ও ফসলি মাঠে পাখির আনাগোনা বেড়ে যায়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফতেপুর গ্রামের তিন যুবক এয়ারগান হাতে পাখি নিধনে নেমে পড়েছেন। তারা বক, ঘুঘুসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে শিকার করছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও প্রতিবাদ করতে গেলে স্থানীয়দের হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিম (৫৫) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এয়ারগান দিয়ে পাখি মারা সম্পূর্ণ বেআইনি। খাওয়ার অজুহাতে তারা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। আমরা প্রতিবাদ করলে উল্টো ভয়ভীতি দেখানো হয়। প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।”

স্থানীয় গৃহবধূ রহিমা বেগম (৪৮) বলেন, “সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গুলির শব্দে আমরা আতঙ্কে থাকি। পাখিরা ফসলের ক্ষতিকর পোকা খেয়ে আমাদের উপকার করে। এভাবে শিকার চলতে থাকলে একসময় এলাকায় কোনো পাখিই থাকবে না।”

আরেক বাসিন্দা মো. আসাদুল ইসলাম (৬২) বলেন, “শিকারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অবিলম্বে তাদের এয়ারগান জব্দ করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।”

পরিবেশবিদরা জানান, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী যেকোনো ধরনের বন্যপ্রাণী বা পাখি শিকার, হত্যা কিংবা দখলে রাখা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ অপরাধে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড অথবা এক লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া দেশে এয়ারগান ব্যবহার করে পাখি শিকার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।

এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত অভিযান চালিয়ে অবৈধ শিকারিদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং এলাকার জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় প্রশাসনকে আরও তৎপর হতে হবে।