ঢাকাশুক্রবার , ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজশাহীতে জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিযোজন উদ্যোগ নিয়ে অ্যাডভোকেসি সভা

Rajshahi Samachar
ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ । ৮৫ জন
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর হোটেল ওয়ারিশানে অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট-এসিডি’র আয়োজনে এবং অক্সফাম ইন বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় কাল্টি ভেটিং চেঞ্জ কর্মসূচির অধীনে জলবায়ু পরিবর্তন: অভিযোজন উদ্যোগ নিয়ে অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর একটি রেস্তোরাঁয় খরা প্রবণ ও পানিসংকটপূর্ণ বরেন্দ্র অঞ্চলে আদিবাসী নারী কৃষিশ্রমিকদের বাস্তবতা, বৈষম্য ও সক্ষমতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার লক্ষ্যেই অ্যাডভোকেসি সভার আয়োজন করা হয়।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক দীপকেন্দ্র নাথ দাসের সভাপত্বিত্বে অ্যাডভোকেসি সভার শুরুতে প্রকল্প সম্পর্কে উপস্থাপন করেন “কাল্টিভেটিং চেঞ্জ” প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী সুব্রত কুমার পাল।

সভায় সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, তানোর ও গোদাগাড়ীর আদিবাসী নারী কৃষক সদস্য, বিভিন্ন সুপার শপের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিসহ ৩০ জন অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক জালাল উদ্দিন সরদার, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাছমিনা খাতুন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক শরীফুল ইসলাম।

আলোচনায় জানানো হয়, বরেন্দ্র অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে খরা ও পানির স্বল্পতায় ভুগছে। এ অঞ্চলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উচ্চ উপস্থিতি আছে এবং অধিকাংশ পরিবার কৃষিনির্ভর জীবিকার ওপর নির্ভরশীল। আনুমানিক ১২ হাজার আদিবাসী নারী কৃষি, শ্রমিক তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলায় কৃষিকাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন।

বক্তারা বলেন, এসব নারী ধান ও সবজি চাষ, চারা রোপণ, আগাছা পরিষ্কার এবং ফসল সংগ্রহসহ উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও তারা ন্যায্য মজুরি ও সামাজিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই কাজে পুরুষ শ্রমিকদের তুলনায় কম পারিশ্রমিক পাওয়ার বিষয়টি সভায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।

সভায় আরও জানানো হয়, খরা সহনশীল ফসল চাষ সম্প্রসারণ সময়ের দাবি হলেও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি ও সেচ সুবিধার অভাবে আদিবাসী নারীরা পিছিয়ে পড়ছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও নীতিগত সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।

সভা থেকে আদিবাসী নারী কৃষিশ্রমিকদের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং খরা সহনশীল কৃষি সম্প্রসারণে প্রণোদনা প্রদানের আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে আদিবাসী নারী কৃষকের অধিকার, মর্যাদা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাছমিনা খাতুন বলেন, সকল স্তরে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ম্যাধমে আমরা যেমন একটি বৈষম্যমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ করতে পারি, সেই চেষ্টা করতে হবে। জলবায়ুর সবচেয়ে বেশী সংকটে নারীরা, তাদের পাশে এবং নারী নেতৃত্বে জলবায়ু সহনশীলতায় ভূমিকা রাখতে, ঐতিহ্যগত কৃষি জ্ঞান কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক দীপকেন্দ্র নাথ দাস বলেন, “খরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের কৃষকদেরকে ঐতিহ্যগত চাষাবাদ পদ্ধতির সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করতে হবে।

পানি সংরক্ষণে সকলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে ফসলের চাষাবাদে ইতিবাচ পরিবর্তন পড়বে। ”
নারী কৃষক অলিভিয়া বিশ্বাস বলেন, “আগে আমরা একধরনের ফসল করতাম। এখন আমরা বৈচিত্র্য এনেছি। এতে খরার সময়ও কিছু ফসল টিকে যায়, জীবিকা চলে। ”

সভায় বক্তারা বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে খরা পরিস্থিতি দিন দিন তীব্র হচ্ছে, যার ফলে খাদ্য উৎপাদন ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা টেকসই কৃষি পদ্ধতি, পানি সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জ্ঞানের ব্যবহারকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার কার্যকর উপায় হিসেবে তুলে ধরেন।