ঢাকামঙ্গলবার , ৬ জানুয়ারি ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজশাহী সুগার মিল ও নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে আঁখ নেওয়া নিয়ে বিতর্ক

Rajshahi Samachar
জানুয়ারি ৬, ২০২৬ ৮:৩০ অপরাহ্ণ । ১০৪ জন
ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলকে দায় চাপিয়ে যে সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে তা রাজশাহী সুগার মিলের অপরাধ ঢাকার একটি কৌশল বলে মনে করছেন কৃষকরা। এ সংবাদ প্রকাশের পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এর আগে সরেজমিন তদন্তের পর
নিয়ম-নীতি না মেনে প্রতিনিয়ত নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস এর আখ নিচ্ছে রাজশাহী সুগার মিল শিরোনামে একটি তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত হয় গণমাধ্যমে। এতে নড়ে চড়ে বসেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধতন কর্মকর্তারা।

নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে রাজশাহী সুগার মিল নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের আখ অবৈধভাবে নিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়ছে প্রান্তিক কৃষকরা। ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের কৃষকরা, গাড়ি প্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকা দালালদের দিয়ে রাজশাহী সুগার মিলের কৃষকদের পুর্জি নিয়ে প্রতিনিয়ত চলছে এই ব্যবসা। গুটিকয়েক দালালরা লাভবান হলেও এতে প্রতিনিয়ত পুর্জি হারাচ্ছেন রাজশাহীর সুগার মিলের প্রান্তিক কৃষকরা। এ সংবাদটি প্রকাশের পর শক্ত অবস্থানে মাঠে নামেন প্রশাসন। উক্ত অপরাধের দায়ে জরিমানাও করেন ভ্র্যাম্যমান আদালত।

প্রান্তিক কৃষকদের অভিযোগ রাজশাহীর সুলতানপুর, গড়গড়িয়া, দিঘা সেন্টার ও নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের পানসিপাড়া-১/২ দুড়দুড়িয়া সেন্টারে গিয়ে দেখা গেছে প্রতিনিয়ত নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের আখ দালালদের মাধ্যমে ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে রাজশাহী সুগার মিলের বিভিন্ন ইক্ষু ক্রয় কেন্দ্র।

সরেজমিনে কৃষকদের এমন অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে।রাজশাহী সুগার মিলের পাঁচপাড়া সেন্টারে আঁখ না নেওয়ায় এখান কার পূর্জিভুক্ত চাষীরা অন্যের পূর্জি ব্যাবহার করে বাউসা সেন্টারে আঁখ দিয়েছেন। এতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে প্রান্তিক কৃষকদের।

অন্যদিকে অবৈধ ভাবে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের আঁখ নিতে গিয়ে রাজশাহী সুগারমিলের তেঁথুলিয়া সেন্টারের আঁখ নিতে ব্যার্থ হওয়ায় অনেক আঁখ সেন্টারে শুকিয়ে নষ্ট হওয়ার বিষটিও নজরে পড়ে। এ বিষয়ে ওই সেন্টারের কর্তব্যরত সিআইসি বলেন, একেবারে মিলে আখ নেওয়া বন্ধ নেই। ধিরগতিতে হলেও রাজশাহী সুগারমিলে নেওয়া হচ্ছে আঁখ।

বিষয়টি নিয়ে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন পিন্টু বলেন, নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের হাজার হাজার হেক্টর জমিতে এবছরে প্রায় ২ লক্ষ মেঃটন আখ মাঠে আছে যা ১২০ দিন মিল চলার কথা থাকলেও আখ মাড়ায়ের ক্ষমতা কম থাকায় কৃষকদের পর্যাপ্ত পরিমাণ পুর্জি না দেওয়াই তারা রাজশাহী সুগার মিলের দালালদের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত অবৈধভাবে আখ বিক্রি করে দিচ্ছে।

এতে নর্থবেঙ্গল সুগারমিলের হাজার হাজার মেঃটন আখ রাজশাহী সুগারমিলে অবৈধভাবে পাচার হওয়ার ফলে নর্থবেঙ্গল সুগারমিলের লক্ষ্যমাত্রা পুরণ না হওয়ার সম্ভাবনা বিদ্যমান। বিপুল পরিমাণ ঋণ অনাদায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও রাজশাহী সুগারমিলের চাষীরা পুর্জি পাওয়া থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছে।

রাজশাহী সুগার মিল মূলত চলে ১ থেকে দেড় মাস এবং এর সম্পূর্ণ আখ যোগান দেই রাজশাহীর সুলতানপুর সেন্টার, গড়গড়িয়া সেন্টার, দীঘা সেন্টার। যেটা নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এই সুযোগে তারা হাজার হাজার মেট্রিক টন আখ পাচার করে নিয়ে যাচ্ছে রাজশাহী সুগার মিল। এতে পুর্জি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রাজশাহী সুগার মিলের প্রান্তিক কৃষকরা।

এ বিষয়ে রাজশাহী সুগার মিলের কৃষকরা বলেন, আমাদের মাঠে হাজার হাজার মেট্রিকটন আখ রয়েছে, আমাদের আখ শেষ না হতেই নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের আখ কেন নেয়া হচ্ছে, এতে আমরা পর্যাপ্ত পরিমান পূর্জি থেকে বঞ্চিত হবো এবং যেসব দালালরা এই কাজে লিপ্ত আছে তাদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হোক।
এ বিষয়ে উল্টো রাজশাহী সুগার মিলের কর্তৃপক্ষকরা নর্থ বেঙ্গল এর ওপরে দায় চাপাচ্ছে।

দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললে উল্টো তাদের পক্ষে সাফার গায়ে রাজশাহী সুগার মিলের জিএম কৃষি মাকসুদা পারভিন বলেন, রাজশাহী সুগার মিল অন্য কোন মিলের আখ নিচ্ছে না। ওখানে আমাদের ও তাদের ২ টা করে সেন্টার রয়েছে, চাষীরা চাইলে আখ দিতে পারে এটা নরমাল বেপার, দালালদের পারলে ধরিয়ে দিন আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো।

রাজশাহী সুগার মিলের এমডি হুমায়ুন কবির দাম্ভিকতার সাথে বলেন, আখের গায়ে কি লেখা আছে সেটা নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের নাম যে আমরা আখ নিতে পারবোনা এটাও সরকারি মিল ঐটাও সরকারি মিল আখ কেনো নিতে পারবো না এমন কোনো কথা নেই। আখ চাষিরা যেখানে সুবিধা পাবে সেখানে আখ সাপ্লাই দিবে বর্ডারের চাষিরা সুযোগ একটু বেশিই পেয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র:গনকন্ঠ