ঢাকাবুধবার , ৪ মার্চ ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সংরক্ষিত আসনের এমপি হতে চান রাজশাহীর ৪ নেত্রী

Rajshahi Samachar
মার্চ ৪, ২০২৬ ১:৩৪ পূর্বাহ্ণ । ১৭৩ জন
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মনোনয়ন ঘিরে রাজশাহীতে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। জেলার অন্তত চারজন নারীনেত্রী মনোনয়ন প্রত্যাশায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।

তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন, কেউ কেউ ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং হাইকমান্ডে নিজেদের রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। রাজপথের ত্যাগী নেত্রী থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিক- সবাই এখন দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।

রাজশাহী জেলায় সংসদীয় আসন রয়েছে ছয়টি। এর মধ্যে চারটিতে জয় পেয়েছে বিএনপি এবং বাকি দুইটিতে জয়ী হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলীয় নেতাকর্মীদের ধারণা, সংরক্ষিত নারী আসনে রাজশাহী থেকে বিএনপির প্রার্থী আসতে পারেন। তবে রাজশাহীর ত্যাগী ও দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেত্রীদের মধ্য থেকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে- এমন প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

জেলার আলোচনায় রয়েছেন সাবেক নারী এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জাহান পান্না, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী মাহমুদা হাবিবা, মহিলা দলের রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রোখসানা বেগম টুকটুকি এবং রাজশাহী জেলা মহিলা দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসাদ বেগম মিতালী।

জাহান পান্না অষ্টম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ছিলেন। বর্তমানে তিনি মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক ভূমিকার কারণে তিনি আলোচনায় রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

মাহমুদা হাবিবা ২০০৫ সালে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি জি-নাইন (গ্রুপ-২০০৯)-এর ফাউন্ডার মেম্বার এবং বর্তমানে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য। পাশাপাশি কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক ভূমিকার কারণে তিনি আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন।

তিনি বলেন, “দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে, তাহলে সংরক্ষিত আসনে অবশ্যই মূল্যায়ন করবে -এ প্রত্যাশা আমার রয়েছে।”

অ্যাডভোকেট শামসাদ বেগম মিতালী রাজশাহী জেলা মহিলা দলের সভাপতি। অতীতে জেলা বিএনপির মহিলাবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কারা নির্যাতিত নেত্রী হিসেবে পরিচিত। তার বাবা বাগমারা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ মরু।

শামসাদ বেগম মিতালী বলেন, “দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থেকেছি, আইনগত সহায়তাও দিয়েছি। দল ত্যাগ ও অবদান বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করি।”

মহিলা দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রোখসানা বেগম টুকটুকিও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন তিনি।

রোখসানা বেগম টুকটুকি বলেন, “আমি দলীয় কর্মসূচিতে সবসময় সক্রিয় ছিলেন। কেন্দ্র যদি ত্যাগী নেত্রীকে মূল্যায়ন করে, তবে আমি বিবেচনায় থাকতে পারি।”

এদিকে, জেলা কৃষক দলের আহবায়ক শফিকুল আলম সমাপ্ত বলেন, “সংরক্ষিত নারী আসনে এমন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত, যিনি রাজশাহীর রাজনীতিতে সক্রিয় এবং দলের কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন।”

সব মিলিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ঘিরে রাজশাহীতে রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে কৌতূহল ও প্রত্যাশা। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত দলের হাইকমান্ড কাকে আস্থার প্রতীক হিসেবে বেছে নেয়।