ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৩ অক্টোবর ২০২৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাপে কাটা রোগীদের জন্য দেশে প্রথম বিশেষায়িত ওয়ার্ড চালু রামেকে

রাজশাহী মেইল
অক্টোবর ২৩, ২০২৫ ৭:৫২ অপরাহ্ণ । ১১২ জন

দেশে প্রথমবারের মতো সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত একটি ওয়ার্ড চালু করেছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল। সাপে কাটায় মৃত্যুহার কমানো ও দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ. এম. শামীম আহাম্মদ আনুষ্ঠানিকভাবে ১২ শয্যার হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ) মানের এই ওয়ার্ডটির উদ্বোধন করেন। পুরোনো ক্যানটিনের স্থানে নির্মিত ইউনিটটিতে আটজন পুরুষ ও চারজন নারী রোগীর জন্য পৃথক শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজনে ওয়ার্ডের বাইরেও সেবা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবু শাহীন মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, যিনি বর্তমানে রাসেলস ভাইপার সাপের বিষ নিয়ে পিএইচডি করছেন।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত রামেকে মোট ১ হাজার ২০৫ জন সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ২৬০ জন বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত ছিলেন এবং ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১০ জন রাসেলস ভাইপারের কামড়ে এবং বাকিরা কালাচ, কেউটে ও গোখরার কামড়ে প্রাণ হারান।

ডা. আবু শাহীন জানান, ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত রাসেলস ভাইপারের কামড়ে মৃত্যুহার ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ। তবে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা ও দ্রুত সেবার কারণে বর্তমানে মৃত্যুহার অনেক কমে এসেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন ওয়ার্ডে সমন্বিত চিকিৎসা, সার্বক্ষণিক চিকিৎসক-নার্স উপস্থিতি, পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম ও দ্রুত সেবার ফলে মৃত্যুহার আরও কমবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি অ্যান্টিভেনম ডোজের মূল্য প্রায় ১৩ হাজার টাকা। এক ডোজে ১০টি ভায়াল লাগে এবং অনেক রোগীর ক্ষেত্রে একাধিক ডোজ প্রয়োজন হয়। তবুও রোগীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এসব চিকিৎসা ও ওষুধ পাবেন। রোগী আসার সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসা শুরু হবে, এক মিনিটও দেরি করা হবে না।

হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ. এম. শামীম আহাম্মদ বলেন, আগে সাপে কাটা রোগীদের বড় ওয়ার্ডের এক কোণায় চিকিৎসা দেওয়া হতো। অনেক সময় রোগীরা দেরিতে আসতেন। এখন আলাদা ওয়ার্ড থাকায় দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল ইমার্জেন্সি ইউনিট, যেখানে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক ও নার্স উপস্থিত থাকবেন।