ঢাকাশুক্রবার , ১৪ নভেম্বর ২০২৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাগমারায় নির্বাচনী উত্তাপ: কী ভাবছে জনগণ ও প্রার্থীরা?

আশরাফুল ইসলাম অন্তর
নভেম্বর ১৪, ২০২৫ ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ । ২৯১ জন

আশরাফুল ইসলাম অন্তর:- রাজশাহীর বাগমারা উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অঞ্চল।
স্বাধীনতার পর থেকে এ এলাকায় নানা রাজনৈতিক পালাবদল দেখা গেছে। আসন্ন জাতীয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে ইতোমধ্যেই বাগমারার রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ভোটার, প্রার্থী, কর্মী ও সমর্থকদের পদচারণায় সরব এখন গ্রামীণ জনপদ।

স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এবার এমন একজন সংসদ সদস্য চান যিনি জননিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট উন্নয়ন, নারী কর্মসংস্থান, টেকসেক্টর ও খেলাধুলায় বাস্তব পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবেন।

ইতিমধ্যেই দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল মাঠে সক্রিয়। বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন ডি. এম. জিয়াউর রহমান জিয়া, আর জামায়াতে ইসলামী থেকে প্রার্থী হয়েছেন ড. আব্দুল বারী। দুজনই গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং নানা উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

বাগমারার সচেতন নাগরিক মহল বলছে, “প্রতিটি নির্বাচনেই প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু বাস্তবায়ন খুব কম দেখা যায়। তবুও আমরা আশা রাখি, এবার যে নির্বাচিত হবেন, তিনি যেন অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পূর্ণ করেন।”

ধানের শীষের প্রার্থী ডি. এম. জিয়াউর রহমান জিয়া রাজশাহী মেইল এর প্রতিবেদকে বলেন,

“কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ক্ষমতায়ন এবং খেলাধুলার উন্নয়নে কাজ করতে চাই। বাগমারার যে এলাকাগুলো পিছিয়ে আছে, সেগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়ন করব। সবার সঙ্গে নিয়ে সোনার বাগমারা গড়াই আমার লক্ষ্য।”

অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী ড. আব্দুল বারী বলেন,

“নারীদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মে নিয়োজিত করতে চাই। আল্লাহ আমাকে সুযোগ দিলে বাগমারা থেকে চাঁদাবাজি চিরতরে বন্ধ হবে।”

স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বলেন,

“বাগমারায় শিক্ষার হার বেশ ভালো, তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও আধুনিকায়ন করতে হবে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যেন শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন। নেপোলিয়ন যেমন বলেছিলেন—‘আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি দেব।”

আগামী নির্বাচনে বাগমারার ভোটাররা কাকে বিশ্বাস করবে—তা এখন সময়ই বলে দেবে। তবে একথা নিশ্চিত, উন্নয়ন আর জবাবদিহিতার প্রত্যাশায় বাগমারার মানুষ এবার সচেতন ও দৃঢ় অবস্থানে।