ঢাকাবুধবার , ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

২২ মাসেও শেষ হয়নি ২২ কিলোমিটার সড়ক

Rajshahi Samachar
জানুয়ারি ১৪, ২০২৬ ১২:১১ পূর্বাহ্ণ । ৭২ জন
ছবি: সংগৃহীত

বরগুনা জেলার নিসান বাড়িয়া এলাকায় প্রায় ২২ মাস আগে শুরু হওয়া ২২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘসূত্রতা, ধীরগতি ও তদারকির অভাবে প্রকল্পটি আজও অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কটি ওই এলাকার সঙ্গে জেলা সদরের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ সড়ক দিয়েই প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও কৃষিপণ্যবাহী যান চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন অংশ খোঁড়াখুঁড়ি অবস্থায় পড়ে থাকায় কোথাও কাদা, কোথাও বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পানি জমে সড়কটি প্রায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে, আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিতে এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলা ও কাজের অনিয়মের কারণে বারবার কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কখনো শ্রমিক সংকট, কখনো আবার উপকরণ না থাকার অজুহাতে দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ থাকে। এতে সড়কের দু’পাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সবচেয়ে বেশি ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে যেতে পারছে না। একই সঙ্গে রোগী পরিবহনে চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জরুরি রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স বা যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কাজ চলমান থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যকর তদারকি চোখে পড়ছে না। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায়সারা কাজ করলেও কেউ জবাবদিহির আওতায় আসছে না। এতে উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করার আশ্বাস পাওয়া গেলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা, কাজের মান নিশ্চিত করা এবং প্রকল্পে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।