ঢাকাবুধবার , ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিয়ালের কামড়ে নারী ও শিশুসহ আহত ৬, হাসপাতালে ভ্যাকসিন সংকট

Rajshahi Samachar
জানুয়ারি ১৪, ২০২৬ ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ । ১১৮ জন
ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় লোকালয়ে ঢুকে পড়া একটি পাগলা শিয়ালের কামড়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের পূর্ব চর শালেপুর গ্রামের আদার বাজার সংলগ্ন এলাকায় এই আতঙ্কজনক ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে জিয়াসমিন (৫০), তাঁর সাত বছরের শিশুসন্তান রবিউল, শেখ লোকমান (৪৩), দেলোয়ার খান (৩২), লুতফর ব্যাপারী (৪২) ও শেখ রবিউলকে (৩০) উদ্ধার করে স্থানীয়রা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তাঁদের মধ্যে পাঁচজন চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হঠাৎ বন্যপ্রাণীর এমন হিংস্র আক্রমণে পুরো এলাকা জুড়ে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

​আক্রান্ত পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বাড়ির পেছনে কাজ করার সময় আকস্মিকভাবে একটি শিয়াল জিয়াসমিনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এসময় পাশে থাকা তাঁর শিশুসন্তান রবিউলকেও শিয়ালটি কামড়ে ধরে।

জিয়াসমিন তাঁর ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে শিয়ালটি তাঁর গলা ও মুখে কামড়ে ঝুলে থাকে। তাঁর আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে এসে জিয়াসমিন ও তাঁর ছেলেকে উদ্ধার করেন। এরপর শিয়ালটি পথে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়েছে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে ধাওয়া করে ক্ষিপ্ত শিয়ালটিকে পিটিয়ে মেরে ফেললে পরিস্থিতির কিছুটা শান্ত হয়। তবে বন্যপ্রাণীর কামড়ে জখম হওয়া ব্যক্তিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

​চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চরাঞ্চল থেকে আসা পাঁচজন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হাসপাতালের মজুত থাকা র‍্যাবিস ভ্যাকসিন (জলাতঙ্ক নিরোধক টিকা) পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, হাসপাতালে শুধু র‍্যাবিস ভ্যাকসিন নয়, বিষধর সাপের কামড়ের প্রতিষেধক এন্টিভেনমসহ আরও কিছু জীবন রক্ষাকারী ওষুধের তীব্র সংকট রয়েছে। বর্তমানে চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকায় বন্যপ্রাণীর আক্রমণ এবং সাপের ঝুঁকি বাড়লেও প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় রোগীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

​ওষুধের সংকট নিরসনে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। চিকিৎসক ও সচেতন মহল মনে করছেন, চরাঞ্চল বেষ্টিত চরভদ্রাসনের মতো দুর্গম এলাকায় বন্যপ্রাণীর আক্রমণের ঝুঁকি সবসময় বেশি থাকে, তাই জরুরি মুহূর্তে রোগীদের জীবন বাঁচাতে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

এদিকে, শিয়ালের কামড়ে আহতদের পরিবারের সদস্যরা ভ্যাকসিনের অভাবের খবরে গভীর উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়রা দ্রুত সরকারি পর্যায়ে ভ্যাকসিন ও ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে করে সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা সেবা পেতে পারেন।