ঢাকাসোমবার , ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১: নিষিদ্ধ প্লাস্টিকের প্রতীকে চলছে দাঁড়িপাল্লার প্রচারণা

Rajshahi Samachar
জানুয়ারি ২৬, ২০২৬ ৭:৪৩ অপরাহ্ণ । ৩৬৫ জন
ছবি: সংগৃহীত

পরিবেশ দূষণের বিষয়টি উপেক্ষা করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে নিষিদ্ধ অপচনশীল প্লাস্টিকের প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. মাওলানা কেরামত আলী। উপজেলার একাধিক স্থানে প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি দাঁড়ি পাল্লা প্রতীকে নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যবহারের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সোমবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সড়ক-মোড়, বাজার এলাকা ও ফুটপাতজুড়ে ঝুলছে প্লাস্টিকের তৈরি দাঁড়ি পাল্লা প্রতীক। এসব প্রতীক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট আসনের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে রাখা এসব প্লাস্টিকের প্রতীক পরিবেশ সুরক্ষা ও নির্বাচনী আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিবেশ ও নির্বাচনী আচরণবিধি-২০২৫ অনুযায়ী, পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে প্লাস্টিকজাত সামগ্রী ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে বাস্তবে এসব নির্দেশনার তোয়াক্কা না করেই জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরিবেশবিদদের মতে, প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এই ধরনের প্লাস্টিক কোনোভাবেই মাটির সঙ্গে মিশে না এবং দীর্ঘদিন পড়ে থেকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে। আবার প্লাস্টিক পোড়ানোর ফলে মারাত্মক বায়ু দূষণ হয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্লাস্টিক ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে পরিহার করা জরুরি।

তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে এবং প্রার্থীরা পরিবেশ বিষয়ে সচেতন হলে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সুযোগ থাকার কথা নয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থী বা তাঁদের অতিউৎসাহী কর্মীদের মাধ্যমে এসব অনিয়ম সংঘটিত হচ্ছে।

উপজেলার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক অধ্যাপক কামাল উদ্দিন বলেন, ‘প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার মূল উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশ রক্ষা করা। কিন্তু রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে শুধু নির্দেশনা দিয়ে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব নয়। কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ হবে না।’

স্থানীয় বাসিন্দা একরামুল হক বলেন, ‘নির্বাচনের সময় পাড়া-মহল্লাগুলো ফেস্টুন, ব্যানার আর প্লাস্টিকের তৈরি প্রতীকে ভরে যায়। ভোট শেষ হলে এগুলো আর কেউ পরিষ্কার করে না। শেষ পর্যন্ত এর ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে।’

শাহবাজপুর এলাকার বাসিন্দা কাইয়ুম আলী বলেন, ‘প্রার্থীরাই যদি পরিবেশের ব্যাপারে সচেতন না হন, তাহলে তাঁদের কাছে ভালো কিছু আশা করা যায় না। যারা শুরুতেই নিয়ম ভাঙছেন, ক্ষমতায় গেলে আইন মানবেন—এমন আস্থা তৈরি হয় না।’

প্লাস্টিকের প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক আহমেদ বলেন, প্রচারণা প্রতীকে প্লাস্টিক ব্যবহারের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তা জুডিশিয়াল তদন্ত টিমের কাছে পাঠানো হবে। তদন্ত সাপেক্ষে নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।