ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৯ মার্চ ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঈদের আনন্দে রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থীদের ভাবনা

Rajshahi Samachar
মার্চ ১৯, ২০২৬ ১০:৪৭ অপরাহ্ণ । ১১৭ জন
ছবি: সংগৃহীত

ঈদের আনন্দে রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থীদের ভাবনা

সুশ্রী সরকার, রাজশাহী কলেজ

ঈদুল ফিতর মুসলিমদের সবচেয়ে আনন্দের উৎসবগুলোর একটি। রমজানের দীর্ঘ এক মাস সংযম ও আত্মশুদ্ধির সাধনার পর শাওয়ালের চাঁদ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুসলিম সমাজে নেমে আসে ঈদের আনন্দ। বিশেষ করে পরিবার থেকে দূরে থাকা শিক্ষার্থীদের কাছে এই উৎসব হয়ে ওঠে ঘরে ফেরার, শিকড়ে ফিরে যাওয়ার এবং শৈশবের স্মৃতিকে নতুন করে ছুঁয়ে দেখার এক মূল্যবান সময়।

পড়াশোনার ব্যস্ততার মাঝেও শিক্ষার্থীদের কাছে ঈদ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কেউ পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য অপেক্ষা করে, কেউ আবার শৈশবের স্মৃতি মনে করে আবেগী হয়ে ওঠে। রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীদের এমনই কিছু ঈদ ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে!

বাড়ি ফেরার আনন্দটাই আলাদা

রাজশাহী কলেজে পড়ার কারণে বছরের বেশিরভাগ সময়ই পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয়। তাই ঈদ এলেই প্রথম যে অনুভূতিটা কাজ করে সেটা হলো বাড়ি ফেরার আনন্দ। যত কষ্টই হোক, ভিড় ঠেলে বাস বা ট্রেনে করে বাড়ি যাওয়ার সময়টাও ভালো লাগে। বাড়িতে পৌঁছে মায়ের রান্না করা খাবার খাওয়া, পরিবারের সবাই মিলে আড্ডা দেওয়া এসব মুহূর্তই ঈদের আসল আনন্দ। শহরের ব্যস্ত জীবনের বাইরে কয়েকটা দিন গ্রামের পরিবেশে কাটানো মানেই যেন মনটা একদম ফ্রেশ হয়ে যায়। তাই আমার কাছে ঈদ মানেই পরিবারের সঙ্গে কিছু সুন্দর সময় কাটানোর সুযোগ।

আবু রায়হান
শিক্ষার্থী, সংস্কৃত বিভাগ,
রাজশাহী কলেজ

ঈদ মানে আনন্দ, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার উৎসব

ঈদ আমার কাছে আনন্দ, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার এক বিশেষ মুহূর্ত। পুরো রমজান মাস আত্মসংযম, ধৈর্য ও আত্মশুদ্ধির মধ্য দিয়ে কাটানোর পর ঈদ আমাদের জীবনে নিয়ে আসে এক অন্যরকম প্রশান্তি। এই দিনে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, একসাথে খাবার ভাগ করে নেওয়া এবং হাসি-আনন্দে সময় কাটানো সত্যিই অনেক মূল্যবান। ঈদ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সুখ কেবল নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয় নয় বরং তা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিলেই তার প্রকৃত সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। তাই দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কথা মনে রেখে তাদের পাশে দাঁড়ানোও ঈদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। নতুন পোশাক, সুস্বাদু খাবার ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ঈদ আমাদের হৃদয়ে ছড়িয়ে দেয় ঐক্য, সহমর্মিতা ও মানবিকতার বার্তা।

নাসিম উদ্দিন
শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ,
রাজশাহী কলেজ

শৈশবের ঈদই ছিল সবচেয়ে মজার

ছোটবেলার ঈদের আনন্দটা ছিল একদম অন্যরকম। ঈদের আগের রাতে নতুন জামা বালিশের পাশে রেখে ঘুমাতাম, যেন সকালে উঠে সবার আগে সেটা পরতে পারি। সকালে তাড়াতাড়ি উঠে গোসল করে ঈদের নামাজে যাওয়ার উত্তেজনাটাও ছিল আলাদা। নামাজ শেষে বান্ধবীদের সঙ্গে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেমাই খাওয়া আর সালামি নেওয়া ছিল সবচেয়ে মজার অংশ। এখন বড় হয়ে গেছি, অনেক কিছু বদলে গেছে। তবুও ঈদ এলেই সেই ছোটবেলার দিনগুলো খুব মনে পড়ে। মনে হয় আবার যদি সেই সময়টাতে ফিরে যাওয়া যেত!

কুইন
শিক্ষার্থী, সমাজকর্ম বিভাগ,
রাজশাহী কলেজ

ঈদের ছুটিতে দূরে গেলেও মনে পড়ে ক্যাম্পাসের বন্ধুদের

ঈদের সময় সবাই নিজের নিজের বাড়িতে চলে গেলেও বন্ধুদের কথা খুব মনে পড়ে। কলেজের বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে যে সম্পর্ক তৈরি হয়, সেটা অনেকটা পরিবারের মতোই। ঈদের ছুটির আগে ক্যাম্পাসে সবার সঙ্গে বিদায় নেওয়া, কে কখন বাড়ি যাবে এসব নিয়ে অনেক গল্প হয়। আবার ঈদের ছুটি শেষে ক্যাম্পাসে ফিরে সবাই মিলে ঈদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করা বেশ মজার একটা বিষয়। কেউ গ্রামের গল্প বলে, কেউ পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়ের কথা বলে। এসব গল্প আর আড্ডার মধ্য দিয়েই ঈদের আনন্দটা আরও দীর্ঘ সময় ধরে থাকে।

কেয়া মুনি
শিক্ষার্থী, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ,
রাজশাহী কলেজ

ঈদের আনন্দ শুধু নিজের মধ্যে আবদ্ধ না থেকে ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। হাসি ফুটুক প্রতিটি মুখে, দূর হোক সব বিভেদ। ত্যাগ, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার চর্চার মধ্য দিয়েই ঈদ হয়ে উঠুক সত্যিকার অর্থে সবার উৎসব।