ঢাকারবিবার , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘ঘটনার মাস্টারমাইন্ড কে এই আবু রায়হান?

বাংলা পত্রিকা ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৫ ৫:৫৯ অপরাহ্ণ । ৩২ জন

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া অংশে সড়কে রশি টেনে সংগঠিত ডাকাতি ঘটনা চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে অনুসন্ধানে। এই ঘটনার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ছিলেন আবু রায়হান নামের এক পুলিশ সদস্য। আহত বাইক চালক সাগর, নুর হোসাইন ও পুলিশ সদস্য আবু রায়হানকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মিলবে পিলে চমকানো তথ্য। ইয়াবার বড় চালান ছিনতাই করতে গিয়ে ধস্তাধস্তিরতে ডাকাতির ঘটনায় রুপ নেয় বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, আহত সাগর ও নুর হোসাইন পুলিশ প্রহরায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। অপরদিকে পুলিশের অভিযানে আটক মো. হুমায়ুন ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে শনিবার আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রটি দাবি করেন। অন্যদিকে গতকাল নিহত মাহমুদুল হকের বাবা বাদি হয়ে হুমায়ুনকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত আরও ৭ জনের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

এদিকে গতকাল শনিবার কক্সবাজার জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এই ঘটনা নিয়ে খোদ পুলিশ সুপার উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এবং উখিয়া, রামু ও ঈদগাহ থানা ক্রস করে কিভাবে এতো বড় ইযাবা চালান এতোদূর গেল তা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তবে কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.জসিম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, গতকালেই অনুষ্ঠিত সভাটি পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা। ওই সভায় অপরাধ নির্মূলে নিয়মিত চেকপোস্ট সহ অভিযান জোরদারের নির্দেশ পুলিশ সুপার।

গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মহাসড়কের চকরিয়ার মালুমঘাট ঢালায় সশস্ত্র ডাকাত দলের হামলায় মাহমুদুল হক (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হন। নিহত মাহমুদুল হক উখিয়ার বালুখালী এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মালুমঘাট ঢালায় সংগঠিত ঘটনাটি ইয়াবা লুটের জন্য সংগঠিত হয়েছে। নিহত ও আহতরা চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি। তাদের নেতৃত্বে রয়েছে বিশাল সিন্ডিকেট। আর তাদের সিন্ডিকেটের ইয়াবা পাচারে সহযোগীতা করে আসছিল আহত পুলিশ সদস্য আবু রায়হান। তার বাড়ি কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুর এলাকায়। অভিযুক্ত সাগর ও নূর হোসাইনের সাথে নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে পুলিশ সদস্য আবু রায়হান কোথায় আছেন জানা যায়নি। তার গ্রামের বাড়ি ঈদগাহর ইসলামপুরে খোঁজ নিয়েও সন্ধান পাওয়া যায়নি।

রোববার সকালে যোগাযোগ করা হলে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মালুমঘাট ঢালায় সংগঠিত ঘটনায় নিহতের পিতা বাদি হয়ে একজন এজাহারনামীয় সহ ৭ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আটক হুমায়ুনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার আরো বলেন, আহত সাগর ও নুর হোসাইন পুলিশের হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। আটক হুমায়ুন ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি প্রধান করেন।

পুলিশ কর্মকর্তা আনোয়ার আরও বলেন, পাহাড়ি জনপদ লামা কেন্দ্রীক একদল ডাকাত সুযোগবুঝে পাহাড়ি পথে কক্সবাজারে এসে চুরি, ডাকাতি সংগঠিত করে। এবং কৌশলে পাহাড়ে ঢুকে পড়ে। যার কারণে মহাসড়কের ৪৪ কিলোমিটার অরক্ষিত হয়ে উঠেছে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, মালুমঘাট এ সংগঠিত ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। নিহতের পিতা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় একজনকে আটক করা হয়েছে। সে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে।
ইয়াবা লুটের ঘটনায় সংগঠিত ঘটনাটি ঘটেছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি সত্য নয় দাবি করে বলেন, চার বন্ধু চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। ওখানে ডাকাতের কবলে পড়ে। এর মধ্যে আবু রায়হান নামের একজন পুলিশ সদস্য ছিল বলে তিনি স্বীকার করেন। ওই ঘটনায় আবু রায়হানও আহত হয়েছেন। তিনি ডিএমপিতে কর্মরত।

তিনি আরো বলেন, পুলিশ সদস্য আবু রায়হানের বাড়ি কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুর এলাকায়।

পুলিশ কর্মকর্তা জসিম আরও বলেন, সংগঠিত ঘটনাটি চকরিয়া থানার পাশাপাশি জেলা পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট গোয়েন্দা পুলিশ ডিবিও ছায়া তদন্ত করছেন।

এএইচএসইউ/এসআর