ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল পৌর শহরের শিবদিঘী বাজারে সরকারীভাবে আঠা বিক্রি করতে ভীড়ের ছবি প্রতিদিনই দেখা যায়। সকাল ৮টায় দোকানের সামনে মানুষের জটলা লক্ষ্য করা যায়। কেউ ব্যাগ হাতে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন, কেউ আবার জোর করে সামনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি (ওএমএস) আওতায়, সরকারী ছুটির দিন ব্যতীত সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিবদিঘী বাজারের একটি দোকানে আঠা বিক্রি হয়। তবে দোকান খোলার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে বরাদ্দকৃত আঠা শেষ হয়ে যায়।
রোববার সকাল ১০টায় দোকান থেকে খালি ব্যাগ হাতে ফিরছিলেন বৃদ্ধ জীবন মিয়া। তিনি জানান, আঠা নিতে ভোরে এসে লাইন ধরতে হয়। একইভাবে খালি ব্যাগে ফিরেছেন লিয়াকত ও খাইরুন নেছা। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এখানে আঠার পরিমাণ চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তারা আঠার যোগান বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা খাদ্য বিভাগ জানায়, রাণীশংকৈল পৌরশহরের শিবদিঘী, কলেজ বাজার, পলাশ মার্কেট, জয়কালীসহ ৬টি স্থানে ৬ জন পরিবেশকের মাধ্যমে সপ্তাহে ৫ দিন ২৪ টাকা কেজি দরে আঠা বিক্রি করা হয়। তবে বরাদ্দ মাত্র ১ মেট্রিকটন, যা চাহিদার তুলনায় কম।
শিবদিঘী বাজারের পরিবেশক মোকারম হোসেন বলেন, প্রতিদিন ৩৫০ কেজি আঠা দেওয়া হয়। ৩ কেজি করে ১১৭ জনকে দেওয়া সম্ভব, অথচ চাহিদা প্রায় ৪শত জন। পলাশ মার্কেটের মৌমিন ও কলেজ বাজারের শাহাজালালও একই অবস্থা জানিয়েছেন।
শিবদিঘী বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম. আর. বকুল মজুমদার বলেন, সরকারী দরে আঠা পাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ বেশি ভীড় জমান। তাই আঠার যোগান বাড়ানো উচিত।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, প্রতিদিন এক হাজার কেজি আঠা বিক্রি হচ্ছে। তবে মানুষের চাহিদার তুলনায় তা কম। আঠার বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
কেএএস/এসআর








