নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জে অবস্থিত ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হৃদরোগে আক্রান্ত এক রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছিলেন একজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট। পরে ওই রোগীর মৃত্যু হলে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে সোমবার বিকেলে জরুরি বিভাগের সামনেই ওই মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টকে গণধোলাই দেন মৃতের স্বজনরা।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকার বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী মিল্লাত হোসেনের বুকে ব্যথা থাকায় তাকে সোমবার সকালে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন স্বজনরা। এ সময় জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক ছিলেন ডা. নাজমুল। তবে ডা. নাজমুলের পরামর্শ ছাড়াই মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট নুরুন্নবী বৃদ্ধ মিল্লাতকে ইনজেকশন পুশ করেন। এতে বৃদ্ধ মিল্লাতের ব্যথা না কমে উল্টো বৃদ্ধি পেলে তার ইসিজি পরীক্ষায় দেখা যায় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তখন ওই মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট তাকে ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেন। মিল্লাত হোসেনের পরিবার অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত শহরের বালুরমাঠস্থ ইসলাম হার্ট সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক জানান, হৃদরোগে তার মৃত্যু হয়েছে।
মিল্লাত হোসেনের ভাতিজা জানান, তার চাচাকে ভুল চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নুরুন্নবী চিকিৎসক না হলেও তিনি তার চাচার চিকিৎসা করেছেন। নুরুন্নবীর ভুল চিকিৎসার কারণেই তার চাচা মারা গেছেন। মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট নুরুন্নবী হাসপাতাল থেকে বের হতে গেলে বাহিরে থাকা রোগীর ক্ষুব্ধ স্বজনরা তাকে মারধর করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে আবারও জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।
মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট নুরুন্নবী জানান, তিনি ট্রমা সেন্টার মেডিকেল ইনস্টিটিউট থেকে ম্যাটস কোর্স করে ইন্টার্ন করছেন। সকালে বৃদ্ধ লোকটি পড়ে গিয়ে পিঠে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। তখন তাকে পেইন কিলার ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল। এক-দেড় ঘণ্টা পরে তার বুকে ব্যথা হয়। তখন তার ইসিজিতে সমস্যা ধরা পড়ায় তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
জরুরি বিভাগের দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, অনেক সময় রোগীর চাপ থাকলে জ্বর-ঠান্ডার জন্য মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টরা প্যারাসিটামলের ওষুধ দিয়ে থাকে। তবে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টরা রোগীদের চিকিৎসা দিলে সেটা ভুল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এসএস/এসআর








