ঢাকাবুধবার , ৭ জানুয়ারি ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জনবল নিয়োগ বন্ধের দাবি

Rajshahi Samachar
জানুয়ারি ৭, ২০২৬ ১১:১৮ অপরাহ্ণ । ৫১ জন
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সব ধরনের জনবল নিয়োগ বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশের কর্মচারী নেতারা। তাঁরা বিএনপি–সমর্থিত বিভিন্ন সংগঠনের কর্মচারী।

আজ বুধবার দুপুরে এ–সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি উপাচার্যের কাছে দেওয়া হয়েছে। স্মারকলিপির কপি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সহ-উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দপ্তরেও দেওয়া হয়েছে।

এতে স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশ আন্তবিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী কর্মচারী ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হলের নিম্নমান সহকারী মো. মাসুদুর রহমান, একই সংগঠনের আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়ক কর্মচারী ফোরামের সভাপতি ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের উচ্চমান সহকারী মো. সইজুদ্দীন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রমিক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও আইন বিভাগের নিম্নমান সহকারী মো. রফিকুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়ক কর্মচারী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও স্টুয়ার্ড শাখার নিম্নমান সহকারী মো. পিয়ারুল ইসলাম, শ্রমিক দলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ও নিরাপত্তাকর্মী মো. হানিফ শেখ।

কর্মচারীদের দেওয়া ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পর অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম কেবল ‘রুটিন ওয়ার্ক’ ছাড়া সবই ন্যস্ত হয়েছে নির্বাচন কমিশনে। সরকার নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত যেমন নিতে পারবে না, তেমনি নির্বাচন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করবে, এমন কোনো কাজ করতে পারবে না। জনবল নিয়োগ একটি নীতিনির্ধারণী বিষয় এবং সরকার এই কাজ থেকেও বিরত আছে। নির্বাচন–সংক্রান্ত এই আইন মেনে চলতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান বাধ্যকর বটে।

তাঁরা দাবি করেন, নির্বাচনকালীন বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দৈনিক মজুরি ও অ্যাডহক ভিত্তিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি অংশ এবং বাইরের একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী সমন্বিতভাবে এ কাজে সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, চাকরিপ্রত্যাশী এসব ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে ক্যাম্পাসে নিয়মিত মহড়া দিচ্ছেন, যার ফলে শিক্ষাঙ্গনে আতঙ্কজনক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় নিজেদের রাবির কর্মচারী পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সময় পরিচ্ছন্নতার কাজে প্রায় অর্ধশত বহিরাগত শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ীভাবে চার শতাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকা সত্ত্বেও বহিরাগতদের দিয়ে কাজ করানো হয়েছে, যা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁদের দাবি, ওই বহিরাগত শ্রমিকদের একটি অংশ একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত এবং বর্তমানে তাঁরা নিয়মিত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছে, যা নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।

এ অবস্থায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে প্রভাবমুক্ত রাখতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের জনবল নিয়োগ শতভাগ বন্ধ রাখার পাশাপাশি বহিরাগতদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানানো হয়েছে স্মারকলিপিতে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীবের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, একটি আবেদন তাঁরা পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় তার নিয়ম অনুযায়ী চলবে। এতে যদি প্রয়োজন হয় নিয়োগ দিতে হবে, তাহলে দেওয়া হবে। আর যদি প্রয়োজন না হয়, তাহলে নিয়োগ দেওয়া হবে না।

তথ্যসূত্র:প্রথম আলো